নিউজ পোল ব্যুরো:মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারে অপসারণ ইস্যুতে (Gyanesh Kumar removal notice) বিরোধীদের দেওয়া ‘পত্রবোমা’য় কার্যত চরম অস্বস্তিতে পড়েছে লোকসভা ও রাজ্যসভার দুই সচিবালয়। দুর্নীতির তদন্তে অনীহা, দুর্ব্যবহার এবং এসআইআরের নামে বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ঘুরপথে এনআরসি কার্যকর করার চেষ্টার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণ দাবি করেছে বিরোধী শিবির। তবে দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও সংসদ সচিবালয় এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ উঠেছে, সরকারের শীর্ষস্তরের নির্দেশে সচিবালয় ইচ্ছাকৃতভাবে এই প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে যাতে আসন্ন নির্বাচনগুলি মিটে গেলে ইস্যুটি ধামাচাপা দেওয়া যায়।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/03/29/jangipur-ram-navami-violence-rss-leader-arrested-ec-seeks-report/
সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও মোদি-শাহ সরকার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar removal notice) এই পদে বসিয়েছিল। এখন তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে অপসারণ প্রক্রিয়া শুরু হলে তা সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। সেই কারণেই ১১ পাতার দীর্ঘ ওই চিঠিতে কোনো আইনি ত্রুটি খুঁজে বের করে তা বাতিল করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে সচিবালয়। অথচ বিরোধীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই নোটিস তৈরি করেছে যাতে কোনো খুঁত না থাকে। গত ১২ মার্চ লোকসভার ১৩০ জন এবং রাজ্যসভার ৬৩ জন সাংসদের সশরীরে করা স্বাক্ষর সম্বলিত এই চিঠি দুই সচিবালয়ে জমা দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি সাংসদের সমর্থন থাকলেও সচিবালয় এখনও পর্যন্ত এর প্রাপ্তিস্বীকার বা সংসদীয় রেকর্ডে কোনো উল্লেখ করেনি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
এই ঢিলেমি দেখেই সরাসরি ‘আঁতাতে’র অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকায় কলকাতা থেকে তাঁর সই সংগ্রহ করে দিল্লিতে পাঠানো হয়েছিল। শুক্রবার এই বিলম্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন জানান, বিজেপি সরকার আর নির্বাচন কমিশনের মধ্যে যে ‘খুল্লামখুল্লা আঁতাত’ চলছে, তা এখন স্পষ্ট। তাঁর প্রশ্ন, চিঠি দেওয়ার ১৪ দিন পরেও কেন কোনো উচ্চবাচ্য করা হচ্ছে না? সংসদীয় গণতন্ত্রকে তামাশা বানিয়ে ছাড়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বিরোধীদের দাবি, নোটিসে যদি কোনো ভুল থাকে তবে তা বাতিল করে দেওয়া হোক, কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত না জানিয়ে ফেলে রাখা আসলে সময় নষ্ট করার এক পরিকল্পিত কৌশল।
