Sleep Apnea: নাক ডাকা নয়, বড় বিপদের ইঙ্গিত! স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন তরুণরাই

লাইফস্টাইল

নিউজ পোল ব্যুরো: বর্তমান সময়ে ঘুমের সমস্যা আর শুধু বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং কমবয়সিদের মধ্যেই তা দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতে ১০ কোটিরও বেশি মানুষ কোনও না কোনও ঘুমজনিত সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে অন্যতম হল স্লিপ অ্যাপনিয়া (Sleep Apnea)। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষম বয়সের মানুষেরাই এই সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন, যা উদ্বেগের বিষয়।

আরও পড়ুন:Millennium Park: অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ মিলেনিয়াম পার্ক ও শিপিং জেটি, বিপাকে পর্যটকরা

স্লিপ অ্যাপনিয়া (Sleep Apnea) সাধারণ নাক ডাকার সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জটিল শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যাধি। এই সমস্যায় ঘুমের সময় বারবার শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি হয়। অনেকের ক্ষেত্রে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসার অনুভূতি হয়, কেউ আবার ঘন ঘন কাশি বা দমবন্ধ ভাব অনুভব করেন। ফলে গভীর ঘুম ব্যাহত হয় এবং সকালে উঠে মাথাব্যথা, ক্লান্তি বা সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞরা স্লিপ অ্যাপনিয়াকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করেন। সেগুলি হল অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া, সেন্ট্রাল স্লিপ অ্যাপনিয়া এবং কমপ্লেক্স স্লিপ অ্যাপনিয়া। অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় গলার পেশি শিথিল হয়ে বায়ুপথ বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে তীব্র নাক ডাকার সমস্যা দেখা দেয়। সেন্ট্রাল স্লিপ অ্যাপনিয়ায় মস্তিষ্ক শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণে সঠিক সংকেত দিতে ব্যর্থ হয়। আর কমপ্লেক্স স্লিপ অ্যাপনিয়ায় এই দুই সমস্যাই একসঙ্গে দেখা যায়।

কমবয়সিদের মধ্যে এই সমস্যার অন্যতম কারণ হল জীবনযাত্রার পরিবর্তন। অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলত্ব ঘুমের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি, রাত জাগার অভ্যাস, অতিরিক্ত ক্যাফিন বা ধূমপান, এবং জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতাও দায়ী। বিশেষ করে রাত জেগে মোবাইল ব্যবহার, হেডফোনে গান শোনা বা স্ক্রিনের সামনে দীর্ঘ সময় কাটানো ঘুমের ছন্দ নষ্ট করে দেয়।

যাঁরা নাইট শিফটে কাজ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। শরীরের প্রাকৃতিক ঘুমের সময়সূচি বদলে যাওয়ায় তাঁদের ঘুমের মান খারাপ হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে স্লিপ অ্যাপনিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

এই সমস্যাকে অবহেলা করলে মারাত্মক শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা অন্যান্য বিপাকজনিত সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে এই সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। গুরুতর ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা সিপ্যাপ মেশিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন, যা ঘুমের সময় শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সময়মতো সচেতনতা— এই দুই-ই পারে স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole