নিউজ পোল ব্যুরো: সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মালদহ ও মুর্শিদাবাদে আসন্ন ভোটকে ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণ ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি রাজনৈতিক দলই অঙ্ক কষতে ব্যস্ত (WB Election 2026)। বিশেষ করে এই দুই জেলায় আসাদউদ্দিন ওয়েইসির নেতৃত্বাধীন মিমের প্রভাব বৃদ্ধি এবং হুমায়ুন কবীরের নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ ভোটের লড়াইকে আরও ত্রিমুখী করে তুলেছে। পাশাপাশি কংগ্রেসও ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) দলের নেতাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। মঙ্গলবার ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি মালদহ ও মুর্শিদাবাদের নেতাদের নির্দেশ দেন, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক যুক্তি তুলে ধরতে। তার কথায়, ‘কংগ্রেসকে ভোট দেওয়া মানে বিজেপিকে শক্তিশালী করা।’ পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, কংগ্রেস আদৌ কোথাও বিজেপিকে রুখতে পেরেছে কি না এই বিষয়টি মানুষের সামনে তুলে ধরার নির্দেশ দেন তিনি।
আরও পড়ুন: Abhishek Banerjee : ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লেও তৃণমূলের জয় নিশ্চিত: অভিষেক
আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের আগে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকে প্রার্থী থেকে শুরু করে সাংসদ, পুরসভার প্রতিনিধি ও পঞ্চায়েত স্তরের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। অভিষেক (Abhishek Banerjee) আরও সতর্ক করেন, কংগ্রেসের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ভবিষ্যতে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন এই আশঙ্কার কথাও ভোটারদের বোঝাতে বলেন তিনি। অন্যদিকে কংগ্রেসও এই দুই জেলায় নিজেদের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করছে। অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury) দীর্ঘ সময় পর বহরমপুরে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া মৌসম বেনজির নুরের কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন মালদহে দলকে বাড়তি শক্তি জুগিয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
বৈঠকে বিজেপিকেও (BJP) কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। তার দাবি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মতো পদক্ষেপ বিরোধীদের ভয় দেখানোর কৌশল। তিনি বলেন, ‘যদি বিজেপির জয়ের বিষয়ে এতটাই আত্মবিশ্বাস থাকে, তাহলে ইডি ব্যবহার করে ভয় দেখানোর প্রয়োজন কেন?’ দলের নেতাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েকদিন ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। লক্ষ্মীর ভান্ডার, যুবশ্রীসহ রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলির সুবিধা তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি সতর্ক করে দেন, এই নির্বাচনের ফলাফলের উপরই নেতাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ভর করবে।
