নিউজ পোল ব্যুরো:‘এসআইআর’ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে কোনও ধরনের আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সেই বার্তাই শনিবার স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া (Ashok Kirtania)। তাঁর বক্তব্য, ‘এসআইআর’-এর তালিকা থেকে কোনও ব্যক্তির নাম বাদ পড়লেও তিনি রেশন কিংবা অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার আশ্বাসও দেন তিনি।
শনিবার এক প্রশাসনিক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে খাদ্যমন্ত্রী জানান, যাঁদের নাম ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় বাদ গিয়েছে, তাঁরা যদি ‘সিএএ’-এর আওতায় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন, তাহলে সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে না। এই প্রসঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে অযথা গুজব বা বিভ্রান্তিতে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সরকার মানুষের পাশে রয়েছে।
এদিন খাদ্য দফতরের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা দুর্নীতির চক্র নিয়েও কড়া অবস্থান নেন খাদ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করা বহু ব্যক্তি অসাধু উপায়ে রেশন কার্ড সংগ্রহ করেছেন এবং সেই রেশন কার্ডকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শীঘ্রই কঠোর প্রশাসনিক অভিযান শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
মন্ত্রী আরও দাবি করেন, রেশন কার্ড তৈরির ক্ষেত্রে একটি সুসংগঠিত অসাধু চক্র সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে ১০ নম্বর ফর্ম জমা দিয়ে বহু ব্যক্তি অবৈধভাবে রেশন কার্ড সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত রেশন কার্ডকে পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করা হবে না বলেও সতর্কবার্তা দেন তিনি। পাশাপাশি, যাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন খাদ্যমন্ত্রী।
খাদ্য দফতরকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রশাসন ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে বলেও দাবি করেন অশোক কীর্তনিয়া (করে ০০২৬Ashok Kirtania)। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার যাতে কোনও অসাধু চক্র কেড়ে নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। সেই কারণেই অবৈধ রেশন কার্ডধারীদের চিহ্নিতকরণ এবং গোটা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
একইসঙ্গে বনগাঁর উন্নয়ন নিয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার ‘সোনার বনগাঁ’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে একাধিক উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এলাকার উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা-কর্মী কিংবা অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।
সবমিলিয়ে শনিবারের সভা থেকে খাদ্যমন্ত্রীর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা ছিল—‘এসআইআর’-এ নাম বাদ পড়লেও সাধারণ মানুষ রেশন বা অন্যান্য সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হবেন না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ‘সিএএ’-এর আওতায় নাগরিকত্বের আবেদন করার পরামর্শ দিয়ে তিনি একদিকে প্রশাসনিক কড়াকড়ির ইঙ্গিত দিয়েছেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ প্রশমনেরও চেষ্টা করেছেন।
