নিউজপোল ব্যুরো: দীর্ঘ ১৪ বছর পর রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ঐতিহাসিক অধ্যায়। ২০১২ সালের দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে বিধানসভার কক্ষে আলোচনায় এল রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বে থাকা মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে যেমন প্রশাসনিক আধুনিকীকরণের ফিরিস্তি তুলে ধরলেন, তেমনই সুর চড়িয়ে বিঁধলেন তৃণমূলের ২১ জুলাই কর্মসূচিকেও। আলোচনায় জানানো হয়েছে, অপরাধ তদন্তকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করতে রাজ্যের ফরেনসিক পরিকাঠামোকে বড়ভাবে শক্তিশালী করা হবে। আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হবে এবং প্রতিটি পুলিশ জেলা ও কমিশনারেটে ভ্রাম্যমাণ ফরেনসিক ইউনিট ও অতিরিক্ত ফরেনসিক ভ্যান দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক তদন্ত করা অনেক সহজ হবে।
এছাড়া খড়্গপুর, ব্যারাকপুর, কল্যাণী, মুর্শিদাবাদ, সিঙ্গুর এবং মালদায় নতুন আঞ্চলিক ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ফরেনসিক সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও উঠে এসেছে। সবচেয়ে বড় খবর, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা পুলিশ নিয়োগ প্রক্রিয়াও দ্রুত এগোতে পারে। জানানো হয়েছে, আদালতে চলা আইনি জট কাটার পর স্থগিত থাকা ১৭,১৪৩টি পদে নিয়োগের চূড়ান্ত মেধাতালিকা খুব শীঘ্রই প্রকাশ করা হতে পারে। এর মধ্যে কলকাতা পুলিশে সাব-ইনস্পেক্টর, সার্জেন্ট, কনস্টেবল ও মহিলা কনস্টেবল মিলিয়ে কয়েক হাজার পদ রয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশেও কনস্টেবল ও সাব-ইনস্পেক্টর পদে বড় নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া জাতীয় গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদানের জন্য ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স গ্রিড ব্যবহারের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। মাদকবিরোধী টাস্ক ফোর্স আরও সক্রিয় করা এবং সীমান্ত এলাকার উন্নয়নের জন্য ভাইব্রান্ট ভিলেজেস প্রোগ্রামের আওতা বাড়ানোর কথাও জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিন পর স্বরাষ্ট্র বাজেটের আলোচনায় আইনশৃঙ্খলা, আধুনিক তদন্ত ব্যবস্থা, পুলিশে নিয়োগ এবং নিরাপত্তা পরিকাঠামো নিয়ে একগুচ্ছ বড় পরিকল্পনা সামনে এসেছে।
