আরজি কর কাণ্ডে মমতাকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরানোর মেগা চক্রান্ত! নিজের দলের নেতার গোপন কীর্তি ফাঁস করলেন কল্যাণ

breakingnews আইন রাজনীতি রাজ্য
নিউজপোল ব্যুরো: ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশের চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার নবান্ন ও কালীঘাটের ভিত পুরোপুরি কাঁপিয়ে দিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করলেন শ্রীরামপুরের দাপুটে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়! আজ বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে মমতার চরম অসম্মানজনক ব্যবহারের বিরুদ্ধে যেভাবে বিস্ফোরক বোমা ফাটালেন কল্যাণবাবু, তাতে বাংলার রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন মহাপ্রলয় শুরু হয়ে গেছে। ২১ জুলাইয়ের প্রকাশ্য মঞ্চে দিদির সাথে ঠিক কী নিয়ে বচসা হয়েছিল এবং কেন তিনি রাগে গরগর করতে করতে হঠাৎ সভা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন— আজ তার পুরো ইনসাইড ডায়েরি জনসমক্ষে খুলে দিলেন ক্ষুব্ধ সাংসদ।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত কড়া ও অনড় সুরে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “মঞ্চে আমি বক্তব্য শেষ করার পর যখন কুণাল এসে দাঁড়াল, তখন উপস্থিত সবাই আমাকে আরও বলতে অনুরোধ করেন। কিন্তু দিদিমণি সেখানে বসে অত্যন্ত অসম্মানজনক ও আপত্তিকরভাবে আমাকে সবার সামনে বলে উঠলেন, ‘এক ঘণ্টার ওপর বক্তৃতা দিচ্ছ!’ এটা আমার কাছে খুব অপমানজনক লেগেছে। দিদি, আপনার কানে এসব আজেবাজে কথা কে দেয়? পাশে তখন খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও বসে সব দেখছিলেন!” নিজের দলের সুপ্রিমোর এমন একনায়কতন্ত্র আচরণের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য প্রেস মিটে কল্যাণের এই রাজকীয় বিদ্রোহ ঘাসফুল শিবিরের কঙ্কালটা  তিলোত্তমার সামনে বের করে দিয়েছে।
তবে আসল হাড়হিম করা ও সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বোমাটি কল্যাণ ফাটালেন আরজি কর কাণ্ড নিয়ে! তিনি সরাসরি দাবি করেন, আরজি করের সেই উত্তাল দিনগুলোতে বাইরে যখন জনরোষ জ্বলছিল, তখন খোদ তৃণমূল কংগ্রেসেরই এক প্রভাবশালী শীর্ষ নেতা সুকৌশলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রীর গদি থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার এক মেগা চক্রান্ত ফেঁদেছিলেন! দিদির পিঠে ছুরি মেরে রাজপাটে বসার সেই নোংরা ডিল ও ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়া চক্রান্তের কথা কল্যাণ আজ ফাঁস করতেই ঘাসফুল সিন্ডিকেটের অন্দরে রীতিমতো কম্পন ও শ্মশানের নীরবতা নেমে এসেছে। তবে হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি কালীঘাট শিবিরও। কালীঘাটের মঞ্চে দাঁড়িয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে জানান, কোনো এজেন্সি বা হুমকিতে তিনি পিছু হটার পাত্র নন। যারা এতদিন দলের ছায়ায় থেকে এখন পেছন থেকে ছুরি মারছে, তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাংলা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে।