নিউজপোল ব্যুরো: নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং যন্তর মন্তরে প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশি টানাটানির ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার এক বড় ঘোষণা করে তিনি জানান, প্রশ্নফাঁস চক্রে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত ও কঠিনতম শাস্তি দিতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করবে কেন্দ্র। ছাত্র-যুবদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার কোনো সমঝোতা করবে না এবং এই বিষয়ে আধিকারিকদের কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই আমূল পদক্ষেপেও শান্ত হচ্ছে না রাজনীতির ময়দান। যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের ওপর পুলিশি ‘জুলুমের’ অভিযোগে টানা তিন দিন ধরে বাদল অধিবেশনে প্রবল হট্টগোল চালাচ্ছে বিরোধী দলগুলি। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়াদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমাপ্রার্থনা না করা পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন থামাবেন না। অন্যদিকে, বিরোধীদের এই জোরালো দাবি এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা।
সংসদের জল গড়িয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্তও। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ অভিযানে পুলিশি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে জরুরি শুনানির আর্জি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, “আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করবেন না।” সব মিলিয়ে, একদিকে প্রধানমন্ত্রীর ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের মাস্টারস্ট্রোক আর অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে লাগাতার ছাত্র বিক্ষোভ— দুই ঘটনাকে ঘিরে উত্তপ্ত দিল্লির রাজনৈতিক পরিবেশ। পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনকারীরা নিজেদের দাবি থেকে এখনও একচুলও সরে আসেননি।
