নিউজ পোল ব্যুরো:হালিশহরে থানা হেফাজতে এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ, কাদা এবং জুতো ছোড়ার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে। রবিবার গোটা ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মমতার নিরাপত্তা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি, পুলিশ-প্রশাসনকে পূর্বে অবহিত না করেই তাঁর হালিশহরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।
আরও পড়ুন:Desh Vibhajan Diwas:১৪ অগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেশ বিভাজন দিবস’, নির্দেশ রাজ্যপালের!
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, জেড প্লাস নিরাপত্তাপ্রাপ্ত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়নি। হালিশহরে তাঁর সফর প্রসঙ্গে শুভেন্দুর দাবি, ‘‘পুলিশকে কোনও পূর্ব তথ্য না দিয়েই উনি সেখানে গিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও ডিসির নেতৃত্বে পুলিশ তাঁকে প্রপারলি সাপোর্ট দিয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।’’ অর্থাৎ, সফরটি পূর্বনির্ধারিত না হলেও প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের গাফিলতি রাখা হয়নি বলেই দাবি তাঁর।
এখানেই থেমে না থেকে নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের অবস্থানকেও নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, মৃতের পরিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই সফরকে স্বাভাবিক ভাবে নেয়নি। পরিবারের সদস্যরা প্রশাসন ও পুলিশের উপর আস্থা রেখে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শুভেন্দুর অভিযোগ, সেই পরিস্থিতিতে পরিবারের আবেগ ও অবস্থানকে উপেক্ষা করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই হালিশহরে গিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও জুতো ছোড়ার ঘটনাতেও সরাসরি আক্রমণ শানান শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলে বিজেপির কোনও পতাকা বা দলের কোনও পরিচিত মুখ দেখা যায়নি। ফলে ঘটনাটিকে দলীয় পরিকল্পিত বিক্ষোভ হিসেবে দেখার কোনও কারণ নেই বলেই তাঁর বক্তব্য। বরং স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ থেকেই ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
‘চোর’ স্লোগান নিয়েও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এত চুরি করেছেন, চোর তো শুনতেই হবে। এরপর থেকে কানে যে ইয়রফোনগুলো লাগান, সেগুলো ব্যবহার করুন, তাহলে আর চোর শুনতে পাবেন না।’’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
পাশাপাশি আরজি কর-কাণ্ডের প্রসঙ্গও টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন সময়ে নির্যাতিতার পরিবারের পাশে না দাঁড়িয়ে এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হালিশহরে গিয়ে ‘নাটক’ করার কারণেই মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে মমতাকে। শুভেন্দুর কথায়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উচিত ছিল রাজনৈতিক কর্মসূচির বদলে ‘অভয়া’র পরিবারের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাওয়া।
তবে বিক্ষোভ, কাদা ও জুতো ছোড়ার মতো ঘটনার মধ্যেও পুলিশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যথাযথ নিরাপত্তা ও সম্মান দিয়েছে বলে স্পষ্ট করে দেন শুভেন্দু। ফলে হালিশহরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন আইনশৃঙ্খলা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে তেমনই শাসক ও বিরোধী শিবিরের পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক আক্রমণে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ আরও বেড়েছে।
