নন্দীগ্রামের মাটিতে ভোটের আগে ‘মার্জিন’ নিয়ে মহা-চ্যালেঞ্জ! শুভেন্দুর হুঙ্কার—“এমন ব্যবধানে বিজেপি জিতবে, যা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি”

breakingnews রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: ধামাকা শুরু নন্দীগ্রাম থেকেই! উপনির্বাচনের লড়াইয়ে প্রার্থী ঘোষণা হতেই ময়দানে নেমে পড়লেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হলদিয়ায় দলীয় প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে সভা করে শুধু ভোটের অঙ্ক নয়, সরাসরি সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশেও বার্তা দিলেন তিনি। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোটকে ‘পরীক্ষা’ হিসেবে তুলে ধরে শুভেন্দুর প্রশ্ন—সরকারের সঙ্গে থাকবেন, নাকি অন্য সিদ্ধান্ত নেবেন?

মঙ্গলবার বিজেপির তরফে দুই উপনির্বাচন কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়েছেন হাসিরানি রথ। তিনি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা। অন্যদিকে রেজিনগরে দলের প্রার্থী শাখারভ সরকার। নন্দীগ্রামের প্রার্থীর মনোনয়ন ঘিরে হলদিয়ায় রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও দেখা যায় বাড়তি উন্মাদনা।

হাসিরানি রথকে সামনে রেখে শুভেন্দুর বক্তব্যেও উঠে আসে চন্দ্রনাথ রথের প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে থাকার কারণেই চন্দ্রনাথকে প্রাণ হারাতে হয়েছিল। সেই পরিবারের সদস্যকেই এবার নন্দীগ্রামের ভোটের ময়দানে সামনে এনেছে বিজেপি—এমনটাই সভায় তুলে ধরেন তিনি।

তবে সভার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে শুভেন্দুর বক্তব্য। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে তাঁর আবেদন, এবার তাঁরা কোন দিকে থাকবেন, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের সঙ্গে থেকে কাজ করার সুযোগ তাঁরা নেবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত ভোটের মাধ্যমেই জানানোর কথা বলেন তিনি।

শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে আসে ‘পরীক্ষা’র প্রসঙ্গও। তাঁর কথায়, আগামী ৬ অক্টোবরের ভোট দুই কেন্দ্রের সংখ্যালঘু ভোটারদের সামনে একটি বড় সিদ্ধান্তের সুযোগ তৈরি করেছে। তাঁরা সেই পরীক্ষায় ‘পাশ’ করবেন, নাকি ‘ফেল’—সিদ্ধান্ত তাঁদেরই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নন্দীগ্রামের ফল নিয়েও আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু। তাঁর দাবি, এবার এমন ব্যবধানে বিজেপি জিতবে, যা আগে কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। শুধু জয় নয়, ব্যবধান নিয়েও বড় দাবি করে তিনি বলেন, ভোটের ময়দানে কীভাবে লড়াই করতে হয়, তা তিনি জানেন। শেষ পর্যন্ত ফলাফলই তাঁর কথার সত্যতা প্রমাণ করবে বলেও ইঙ্গিত দেন।

সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ করেন শুভেন্দু। ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথাও তুলে ধরে নিজের জয়কে সামনে রাখেন বিরোধী দলনেতা।