ভারতের ভৌগোলিক ও (Border)কৌশলগত মানচিত্রে পূর্বাঞ্চলের স্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই অঞ্চলের সীমান্ত ভাগাভাগি হয়েছে চীন, মায়ানমার, বাংলাদেশ, ভূটান ও নেপালের মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে। ফলে, জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষার ক্ষেত্রে পূর্বাঞ্চলের সেনাবাহিনী কার্যত দেশের প্রতিরক্ষার প্রথম সারির প্রহরী। এ অঞ্চলের সুরক্ষা প্রশ্নটি এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম নীতিগত প্রসঙ্গ। চীন-ভারত সম্পর্ক, মিয়ানমারের অস্থিরতা কিংবা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা—সব মিলিয়ে পূর্বাঞ্চলের গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রথমত, পূর্বাঞ্চলের সীমান্তে চীনের সঙ্গে দীর্ঘকালীন উত্তেজনা ভারতকে সর্বদা সতর্ক থাকতে বাধ্য করেছে। অরুণাচল প্রদেশে চীনের(china) আগ্রাসী অবস্থান কেবল ভূখণ্ড দাবি নিয়েই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ভারতের সার্বভৌমত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে। এই অবস্থায় পূর্বাঞ্চলের সেনা মোতায়েন সীমান্তে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলছে এবং সম্ভাব্য সংঘাত ঠেকাতে প্রতিদিন নজরদারি চালাচ্ছে।https://thenewspole.com/2025/09/13/the-space-of-education-increased-but-denied-centralism-of-control/
দ্বিতীয়ত, উত্তর-পূর্ব ভারতের ভেতরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন ও বিদ্রোহী কার্যকলাপ দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিরতা তৈরি করেছে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেকটা শান্তি ফিরেছে, তবু সেনাবাহিনী এখনও এই অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার অন্যতম ভরসা।
তৃতীয়ত, ভৌগোলিক কারণে পূর্বাঞ্চল সংবেদনশীল। ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত সিলিগুড়ি করিডর পুরো উত্তর-পূর্বকে মূল ভারতের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটি যে কোনো সময় বাহ্যিক হস্তক্ষেপ বা আভ্যন্তরীণ অশান্তির কারণে ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অস্থিরতার ফলে সেনাবাহিনী এখানে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়ে সব সময় সতর্ক থাকে।
এছাড়া, মানবিক সঙ্কট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকা এই অঞ্চলে অনন্য। পাহাড়ি ভূখণ্ড, দুর্বল ইনফ্রা কাঠামো ও বারবার বন্যা কিংবা ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে সেনা সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্য পরিচালনা করে জনসাধারণের আস্থা অর্জন করেছে।
সুতরাং বলা যায়, পূর্বাঞ্চলের সেনাবাহিনী(SSB) শুধু সীমান্ত সুরক্ষা নয়, জাতীয় ঐক্য রক্ষা, কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে(DefencePolicy) এদের গুরুত্ব বাড়ছে দিনদিন, আর ভবিষ্যতেও পূর্বাঞ্চল জাতীয় নিরাপত্তার মূল ভরকেন্দ্র হয়ে থাকবে। বলা যায়, পূর্বাঞ্চল শুধু ভৌগোলিকভাবে প্রান্তিক নয়, বরং কৌশল কাঠামোর ক্ষেত্রেও কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সেনাবাহিনীর ভেতরে এর গুরুত্ব বৃদ্ধির অর্থ হলো—জাতীয় সুরক্ষার মূল ভিত্তি শক্তিশালী করা। তাই এই অঞ্চলে ইনফ্রা কাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং নিরাপত্তা কৌশলের আধুনিকীকরণ এখন সময়ের দাবি।
