Editorial: kite story: স্বপ্নের ঘুড়ি ওড়ান, কিন্তু বিধি মেনে,সাবধানে।

সম্পাদকীয়

পেটকাটি, চাঁদিয়াল, মোমবাতি, বগগা, আকাশে ঘুড়ির ঝাঁক(kite)মাটিতে অবজ্ঞা।

ঘুড়ি যতক্ষণ আকাশে ওড়ে, উড়ে চলে কল্পনার আকাশে স্বপ্ন। বিশ্বাসের মাঞ্জা দেওয়া সুতোয় ভরসার সেই স্বপ্ন উড়ানের বাজার বেশ লাভদায়ক। পাইকারি পাওয়া যায় কলকাতা মেটিয়াবুরুজে আর উত্তর ২৪ পরগণা জেলার খড়দহে। যেখানে সাধারণ দেশি ঘুড়ি সাধারণত ৩ টাকা থেকে ১২ টাকা। আর ডিজিটাল বা বড় আকারের ঘুড়ি ৫০ টাকা থেকে শুরু। হতে পারে ৬০০ টাকাও। ১২০ পিস কিনলে পাইকারি অফার পাওয়া যায়; যেমন, কিছু অতিরিক্ত ঘুড়ি ফ্রি দেওয়া হয়। দামও কিছু কম নেওয়া হয়। দেশি ঘুড়ি সাধারণত রঙিন পাতলা কাগজ ও বাঁশ বা কাঠ দিয়ে তৈরি, হাতে-হাতে বানানো হয়। টুকরো খরচ বাদ দিয়ে বেশিরভাগ লাভ, বিশেষত সিজনের সময় (বিশ্বকর্মা পূজা, সংক্রান্তি)। বড় আকৃতির ঘুড়ির চাহিদা বেশি, বিশেষভাবে ডিজাইন করা হলে দাম আরও বেশি। অন্যদিকে চীনা ঘুড়ির বৈশিষ্ট্য সাধারণত প্লাস্টিক, নাইলন, সিন্থেটিক কাপড় বা পলিমার ফ্রেমে নির্মাণ সামগ্রীতে। মাঞ্জা, সুতা এবং নাটাই পাইকারিতে আলাদাভাবে কিনতে হয়; সুতোর দাম মান ও দৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভর করে। চীনা এবং দেশি ঘুড়ির মধ্যে মূল পার্থক্য গঠনের ধরন, উপাদান, নকশা, ওড়ার কৌশল ও ব্যবহারে লক্ষ করা যায়।

[আরও পড়ুন]

সীমান্ত নিরাপত্তায় পূর্বাঞ্চলের সেনাবাহিনীর ঢেলে সাজার প্রয়োজন বেড়ে চলেছে।

চীনে ঘুড়ি(kite) আবিষ্কার হয় প্রায় ২৮০০ বছর আগে, সেখান থেকে ভারত, বাংলাদেশ, জাপান, কোরিয়া হয়ে ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়ে। জানুয়ারি মাসের ১৪ তারিখকে বিশ্ব ঘুড়ি দিবস গণ্য করা হয়। প্রথমদিকে কাগজ ও বাঁশ, একসময় সিল্ক ব্যবহার হতো। পরে নানা শৈলীর ঘুড়ি তৈরি হয়েছে: দেশি, পেটকাটি, বগ্গা, চীনা, বক্স, মাছ, সাপ, ফুল ইত্যাদি। বাংলার পুরনো ঘুড়ি উৎসব হলো পৌষ সংক্রান্তি ও বিশ্বকর্মা পূজা, যেখানে ঘুড়ি ওড়ানো হয় শত বছরের ঐতিহ্য মেনে।
ঘুড়ি (theKite)তৈরির খরচ কম; কাগজ/পলিথিন, বাঁশ, সুতা—সব মিলিয়ে একটু শ্রম দিলে ঘরে বসেই ব্যবসা করা যায়। সুতো যেমন চীনা মাঞ্জা (নাইলন, অতি ধারালো) ফলে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর,পাশাপাশি পাখির জন্যও বিপজ্জনক। অন্যদিকে দেশি সুতি বা মাঞ্জা, কম ধার। চিনা মাঞ্জার তুলনায় অনেক বেশি পরিবেশ বান্ধব। অনেক কম বিপজ্জনক। কিন্তু মানুষের ঝোঁক বেশি রঙিন,বেশি আধুনিক চিনা ঘুড়ির দিকেই। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, পরিবেশ বিরোধী এবং বিপজ্জনক ঘুড়ি এনে দিতে পারে অনেক অবাঞ্ছিত বিপত্তি। এবার ঘুড়ি ওড়ানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা আসতে পারে প্রকৃতির কাছে। যেভাবে বৃষ্টি বাদলের আগাম বিপদ সংকেত দিচ্ছে আবহাওয়া দফতর- তাতে সময় ভুলিয়ে দেওয়া ঘুড়ির উড়ান স্বপ্ন যে কতদূর সত্যি হবে তা বলা শক্ত। তবে প্রকৃতি যদি ঘরে বসিয়ে দেয় তবে একটা ভাল মুভি দেখতে পারেন। “দ্য কাইট রানার”। দুই বন্ধুর কাহিনী। ঘুড়ি আছে। আছে আরও মুভি ও শর্ট ফিল্ম আর আনন্দ উপকরণ। তবে ঘুড়ির আনন্দের সঙ্গে সঙ্গে আরও একটা ইতিহাস চলে আসে বাঙালি হৃদয়ের কাছে। কিশোর বয়সের রোমাঞ্চকর স্মৃতির স্বপ্ন অভিজ্ঞতা। তাই প্রতি বছরের প্রতীক্ষা বিশ্বকর্মা পুজোর দিন। এক ছাঁদে উড়বে ঘুড়ি। তাই দেখে পাশের বাড়ির ছাদেও উড়বে খুশির ওড়না। যত খুশি ও-ড়-না।