সঙ্গীতা ঘোড়ুই : চুলের সৌন্দর্য অনেকটাই নির্ভর করে তার গঠন ও যত্নের উপর। সোজা বা মসৃণ চুল (Straight Hair) সহজেই নানা ধরণের কেশসজ্জা (Hairstyle) করা যায়, তেমন জটও সহজে পড়ে না। কিন্তু কোঁকড়ানো চুল (Curly Hair) অনেক সময়েই যত্ন নিতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়তে হয়। জট ছাড়াতে গিয়ে বিরক্তি আসে, আবার চুলের ভলিউম থাকলেও সেটাকে সুন্দরভাবে সাজানো মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। তাই কোঁকড়ানো বা রুক্ষ চুলের (Frizzy Hair) জন্য বিশেষ হেয়ার কেয়ার (Hair Care) প্রয়োজন। বিশেষ করে তেলের (Hair Oil) সঠিক ব্যবহার চুলকে নরম, মসৃণ ও স্বাস্থ্যকর করে তোলে। কোন কোন তেল এই ক্ষেত্রে কার্যকর, তা জেনে নেওয়া যাক।

প্রথমেই বলতে হয় নারকেল তেলের (Coconut Oil) কথা। নারকেলের শাঁস থেকে তৈরি এই তেল বহু প্রাচীনকাল থেকেই চুলের যত্নে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (Omega 3 Fatty Acid) এবং লরিক অ্যাসিড (Lauric Acid), যা মাথার ত্বকের সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক। সবচেয়ে বড় কথা, চুল সহজে এই তেল শোষণ করে নেয়। শুষ্ক ও কোঁকড়ানো চুল নরম করতে নারকেল তেল অত্যন্ত উপকারী।
আরও পড়ুন: Health Tips :ডাবের জল নাকি তাজা ফলের রস? জানুন কে খেলে উপকার, কে বাঁচবে দূরে
মেথির তেল (Fenugreek Oil) ঘরোয়া টোটকা হিসেবেও জনপ্রিয়। মাথার ত্বকে খুশকি (Dandruff) বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন (Fungal Infection) হলে মেথির তেল বিশেষভাবে কার্যকর। এটি চুলকে পুষ্টি জোগায় ও শুষ্কভাব কমায়। আমলকি (Amla) ও নারকেল তেলের সংমিশ্রণও দারুণ ফল দেয়। এক কাপ নারকেল তেলে ২ চামচ আমলকি পাউডার বা শুকনো আমলকি দিয়ে ফুটিয়ে নিলে তৈরি হয় বিশেষ তেল। নিয়মিত সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করলে চুল মজবুত হয় এবং ভাঙা চুলের সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। আরও একটি কার্যকর উপায় হল জবা ফুল (Hibiscus) ও মেথি দানার মিশ্রণ। ৫টি জবা ফুলের পাপড়ি ও এক চা চামচ মেথি দানা তেলে দিয়ে ভালোভাবে ফোটাতে হবে। তেল ঘন হয়ে এলে ঠান্ডা করে মাথার ত্বকে মালিশ করলে রুক্ষ ও জটলাগা চুল নরম হয়। একইসঙ্গে খুশকি কমে এবং চুলে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।

কোঁকড়ানো চুলের যত্নে নারকেল তেল, মেথির তেল, আমলকি তেল এবং জবা-ভিত্তিক তেল চুলকে করে তোলে নরম, মসৃণ ও স্বাস্থ্যকর। নিয়মিত ব্যবহার করলে Hair Growth বাড়ে, Hair Fall কমে এবং চুল পায় প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা।
