নিউজ পোল ব্যুরো: নিশ্ছিদ্র আইনি লড়াই, রাজনৈতিক আবহ এবং তদন্তকারী সংস্থার ধীর গতির কার্যকলাপ এই তিনের সংঘাতে ফের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পশ্চিমবঙ্গের কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা (Chandranath Sinha)। নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়ানো এই প্রভাবশালী মন্ত্রীর জামিনের শুনানিতে নতুন মোড় নিল, যখন বিচারক শুভেন্দু সাহা কার্যত তোপ দাগলেন ইডি-র ভূমিকার উপর। “১১ মাস কী করছিলেন?”এই সরাসরি প্রশ্নে যেন নড়ে উঠল তদন্তকারী সংস্থা।
আরও পড়ুন: Mamata Banerjee : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে কলকাতায় শুরু হল পুজো উৎসব
গত বছরের মার্চ মাসে চন্দ্রনাথ সিনহার (Chandranath Sinha) বাড়িতে ইডি হানা দিয়েছিল। ৪১ লক্ষ টাকা ও একাধিক মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। এমন গুরুতর প্রমাণ হাতে থাকার পরেও দীর্ঘ ১১ মাসে কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই প্রশ্নে স্বাভাবিক ভাবেই ওঠে তদন্তের গতি ও উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ। বিচারক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সেই সময় এই অর্থই কি হেফাজতের জন্য যথেষ্ট ছিল না?” ইডির আইনজীবী পাল্টা বলেন, আরও তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনে তারা অপেক্ষা করছিলেন। তবে, আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট যে তদন্তে গাফিলতির ছাপ থাকছে।
ইডি-র দাবি, নতুন তথ্যের ভিত্তিতে বহু ‘অজানা লিংক’ উঠে এসেছে, যেগুলো যাচাইয়ের জন্য চন্দ্রনাথকে হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তারা দাবি করেন, চন্দ্রনাথ (Chandranath Sinha) একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং তিনি তদন্ত প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারেন। এ দাবির তীব্র বিরোধিতা করেন চন্দ্রনাথের আইনজীবী। তিনি জানান, ইডি এখন রাজনীতি খেলছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেফাজতের চেষ্টা করছে।
শুনানি শেষে বিচারক শুভেন্দু সাহা মামলার রায়দান স্থগিত রাখেন। আগামী মঙ্গলবার দুপুর ২টোয় রায় ঘোষণা হবে। তার আগে চন্দ্রনাথের আইনজীবী সোমবার সকাল ১০:৩০-এ হলফনামা জমা দেবেন। আদালত থেকে বেরিয়ে চন্দ্রনাথ বলেন, “বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা ছিল, আছে থাকবে।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
