Editorial: BLO- দের নিরাপত্তার প্রশ্নটা গণতন্ত্রের

সম্পাদকীয়

নিউজ পোল ব্যুরোঃ মাঠকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি একটি তাৎপর্যপূর্ণ সামাজিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা তুলে ধরে। যেখানে নির্বাচনের ন্যায্যতা নির্ভর করে সেইসব মাঠপর্যায়ের(BLO) কর্মীদের নিরাপত্তার ওপর। যাদের উপস্থিতিতেই ভোট প্রক্রিয়া সম্ভব হয়। নিরাপত্তাহীন নির্বাচনে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। নির্বাচনের মেরুদণ্ড শুধু ভোটার নয়, যারা ভোটগ্রহণ কার্য সম্পাদন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তাঁদেরও । বস্তুত তারা তৈরি করে দেন গণতন্ত্রের প্রাথমিক খসড়া । ব্লক লেভেল অফিসার বা BLO-রা সেই মেরুদণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে নাম তোলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন করেন, আর নিশ্চিত করেন যেন প্রতিটি নাগরিক তার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জেলায় এই BLO দের উপর হুমকি, হামলা ও রাজনৈতিক চাপের ঘটনা ক্রমবর্ধমান। এটি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, গণতন্ত্রের জন্য সরাসরি বিপদ সংকেত । BLO দের নিরাপত্তা দেওয়া শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি সাংবিধানিক প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ কার্যকর করতে যদি মাঠপর্যায়ের ব্যক্তি ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে কাজ করেন, তাহলে সুষ্ঠু ভোটের স্বপ্নটাই অধরা থাকবে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপে BLO দের যেন টার্গেট করা না হয়। এ বিষয়ে প্রশাসনকে অতি সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে রাজ্য ও জেলা পর্যায়ে তাদের জন্য সুরক্ষা বলয় গঠন করা উচিত, যেমন পুলিশ মোতায়েন, নির্দিষ্ট হেল্পলাইন, এবং পর্যবেক্ষক সংযোগ ব্যবস্থা। রাজনীতি ও প্রশাসন উভয়কেই মনে রাখতে হবে, BLO দের ওপর আস্থা নষ্ট হলে জনগণের গণতান্ত্রিক আস্থাও ক্ষয়প্রাপ্ত হবে। নির্বাচন কেবল ভোটের দিন নয়, প্রস্তুতির পুরো প্রক্রিয়াই নিরাপদ হওয়া প্রয়োজন। BLO দের সুরক্ষাই এখন সেই নিরাপদ প্রক্রিয়ার প্রথম শর্ত।

[আরও পড়ুন]  http://সর্বদলীয় বৈঠক ও নির্বাচন কমিশন
এখন লাখটাকার প্রশ্ন BLO দের নিরাপত্তা কে দেবে, রাজ্য না কমিশন? যদি দেখা যায় যে প্রশাসন নির্বিকার, নির্বাচন কমিশন নীরব। তাহলে এই কর্মকর্তাদের রক্ষার দায়িত্ব কে নিচ্ছে? রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা এখানে অস্বীকারযোগ্য নয়। তারা জানে কোথায় BLO দের ওপর আক্রমণ ঘটছে, কারা তাদের ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অভিযোগ গৃহীত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। কিন্তু তাহলে চলবে না। স্থানীয় থানাগুলো অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করে। সেটা একেবারেই অভিপ্রেত নয়। প্রশাসনের ওপর BLO দের আস্থা যেন কোনভাবেই টলে না যায়। এটিকে আর গাফিলতি বলা যায় না—এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নৈতিক দেউলিয়াপনা । নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন কম নয়। মনিটরিং করে দিতে হবে কড়া জবাবদিহি। রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন যদি BLO দের সুরক্ষা দিতে না পারে, তাহলে সেই নির্বাচনের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। গণতন্ত্র কেবল ভোটে টিকিয়ে রাখা যায় না, নিরাপদ ভোট-পরিবেশ নিশ্চিন্ত করতে হবে। তবেই ঘটবে সারের (SIR) সার্থকতা ।