sleep cycle: টানা ঘুম নয়! এক সময় রাতে দু’দফায় ঘুম ছিল মানুষের স্বাভাবিক রুটিন

Life style লাইফস্টাইল

নিউজ পোল ব্যুরো: মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে অনেকেই ভাবেন এ আবার কেন হল(sleep cycle)? ভুল খাওয়া, স্ট্রেস না কি অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার? কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, মাঝরাতে একবার জেগে ওঠা কোনও অস্বাভাবিক অভ্যাস নয়। বরং হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের স্বাভাবিক ঘুমের ধরণই ছিল দু’দফা ঘুম—যাকে আজকের ভাষায় বলা হয় (Biphasic Sleep / Split Sleep)।

বর্তমান যুগে আমরা মনে করি টানা ৭–৮ ঘণ্টা রাতের ঘুমই (Sleep Pattern) স্বাভাবিক। কিন্তু গবেষণা ও ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, প্রাচীন যুগে একটানা ঘুমের কোনও ধারণা ছিল না। ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার বহু সভ্যতায় মানুষ রাতের প্রথম ভাগে কয়েক ঘণ্টা ঘুমোতো—যা ছিল first sleep। তার পরে মাঝরাতে কিছু সময় জেগে কাটানোর পর আবার হত second sleep।

আরও পড়ুন:

সেই ব্যবধানের সময় মানুষ কী করত?

ইতিহাসবিদদের মতে, কেউ বাড়ির চারপাশে ঘুরে পশুপাখিদের দেখাশোনা করত, কেউ আগুনে নতুন কাঠ যোগ করত, অনেকে বিছানায় বসেই প্রার্থনা করতেন। কেউ আবার ডায়েরি লিখতেন বা চিঠিপত্র সারতেন। এমনকি দাম্পত্য জীবনের ব্যক্তিগত সময় কাটাতেও অনেকে এই ব্যবধান ব্যবহার করতেন। গ্রিক কবি হোমার ও রোমান কবি ভার্জিলের লেখাতেও এই দু’দফা ঘুমের উল্লেখ আছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

তাহলে প্রশ্ন—অভ্যাসটা বদলাল কীভাবে?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বদলের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রয়েছে কৃত্রিম আলো এবং আধুনিক জীবনধারা (Modern Lifestyle)–র। সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকে প্রথমে তেলের আলো, পরে গ্যাস ল্যাম্প, আর শেষে বিদ্যুতের আলো মানুষের রাতের জীবনকে পাল্টে দেয়। আলো পেয়ে মানুষ রাতেও কাজ করতে শুরু করেন। ফলে সূর্যাস্ত মানেই বিশ্রাম—এই ধারণা ভেঙে যায়। উজ্জ্বল আলো শরীরের ভিতরে জৈবিক প্রভাব ফেলে। রাতে আলো জ্বালালে মস্তিষ্কে মেলাটোনিন হরমোন (Melatonin Hormone) ক্ষরণ দেরিতে হয়। এ হরমোনই ঘুমের সময়সূচি নিয়ন্ত্রণ করে (Circadian Rhythm)। ফলে ঘুম দেরিতে আসে এবং মানুষের ঘুম টানা হওয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকে।

শিল্পবিপ্লবের সময়ে কারখানার শ্রমিকরা দিনের শেষে বাড়ি ফিরে ক্লান্ত হয়ে টানা ঘুমাতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে দু’দফা ঘুমের প্রাচীন প্রথা হারিয়ে যায়, জায়গা নেয় একটানা ঘুম। তাই মাঝরাতে ঘুম ভাঙলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই—এটা শরীরের আদিম স্মৃতি, বিবর্তনের ছাপ।