নিউজ পোল ব্যুরো:যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে সৃষ্ট চরম বিশৃঙ্খলার পর এবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির দাবি তুললেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma attacks Mamata)। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং ভিআইপি সংস্কৃতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এই পরিস্থিতির দায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সরে যাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/12/13/shahrukh-khan-left-kolkata-with-his-son/
শনিবার ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন কলঙ্কিত হয়। অভিযোগ, মন্ত্রী ও শাসকদলঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ঘিরে রাখার কারণে বিপুল অর্থ ব্যয় করে টিকিট কাটা সাধারণ দর্শকরা মাঠে ঢুকেও প্রিয় তারকাকে দেখতে পাননি। সেই ক্ষোভ থেকেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং তা দ্রুত ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুঠপাটে রূপ নেয়।
ঘটনার পরপরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে মেসি ও তাঁর অনুরাগীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এই ক্ষমাপ্রার্থনাকে ‘মায়াকান্না’ বলে কটাক্ষ করেন। এরপরই মমতার বিরুদ্ধে আরও কড়া সুরে আক্রমণ শানান হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma attacks Mamata)।
হিমন্তর বক্তব্য, রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যিনি একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী, এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার—এই দু’জনেরই গ্রেফতার হওয়া উচিত ছিল। মেসির সফরের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁর গ্রেফতারে আপত্তি না থাকলেও, হিমন্তর দাবি—সবার আগে প্রশাসনের শীর্ষস্তরের দায় নির্ধারণ হওয়া প্রয়োজন।
ভিড় সামলানো এবং এত বড় অনুষ্ঠান পরিচালনায় রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, গুয়াহাটিতে শিল্পী জুবিন গর্গের মৃত্যুর পর টানা তিন দিন প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত হলেও কোনও অঘটন ঘটেনি। পোস্ট ম্যালোনের অনুষ্ঠানে ৫০ হাজার মানুষের ভিড়েও শান্তি বজায় ছিল। মুম্বইয়ে মহিলাদের বিশ্বকাপ নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, “পশ্চিমবঙ্গেই কেন সব কিছু অনিশ্চিত? এখানে ভিআইপি সংস্কৃতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।”
মেসিকে ঘিরে যুবভারতীর ঘটনায় রাজ্য সরকারের আত্মসমীক্ষা প্রয়োজন বলেও মত হিমন্তর। তিনি বলেন, “মেসি গোটা বিশ্বের কাছে আদর্শ। আরজি কর হোক বা যুবভারতী—ঘটনা অস্বীকার করলেই দায় শেষ হয় না। রাজ্য কোন দিকে যাচ্ছে, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।” তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত নৃশংসতার শিকার হচ্ছেন, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
আরও তীব্র ভাষায় হিমন্ত বলেন, “মমতাদি চিরকাল থাকবেন না, আমিও থাকব না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গকে যে পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ইতিহাস তা ক্ষমা করবে না। আজ ভোটের রাজনীতি যাই হোক, রাজ্যের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়ছে। ইতিহাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গ ধ্বংসের জন্যই মনে রাখা হবে।”