নিউজ পোল ব্যুরো: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে তৃণমূল কংগ্রেস যে একেবারে ভিন্ন কৌশলে এগোতে চাইছে, তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সোমবার মিলন মেলায় আয়োজিত ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’দের সম্মেলনে তিনি তৃণমূলের (TMC) সংগঠনকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করে এক অভিনব বার্তা দেন। অভিষেকের (Abhishek Banerjee) বক্তব্যে উঠে আসে, যেমন দেশের সুরক্ষায় স্থলসেনা, বায়ুসেনা ও নৌসেনা একযোগে কাজ করে, তেমনই ভোটের লড়াইয়েও তৃণমূল তিনটি ভিন্ন শক্তিকে সামনে রেখে মাঠে নামবে।
অভিষেক (Abhishek Banerjee) স্পষ্ট করেন, দলের কর্মী ও সমর্থকদের ভূমিকা অনুযায়ী এই তিন বাহিনীর ভাগ করা হয়েছে। যাঁরা রাস্তায় নেমে মিছিল করেন, দেওয়ালে পোস্টার লাগান, ব্যানার-ফেস্টুন টাঙান এবং পতাকা হাতে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন, তাঁদের তিনি তৃণমূলের ‘স্থলসেনা’ বলে উল্লেখ করেন। অভিষেকের মতে, এই কর্মীরাই সংগঠনের মেরুদণ্ড, যাঁদের উপস্থিতিতে রাস্তায় দলের শক্তি দৃশ্যমান হয়।
এর পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে সক্রিয় কর্মীদের আলাদা করে গুরুত্ব দেন তিনি। ফেসবুক, এক্স, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইউটিউবের মাধ্যমে যাঁরা তৃণমূলের পক্ষে প্রচার চালান, বিরোধীদের আক্রমণের জবাব দেন এবং সরকারের কাজ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন, তাঁদের তিনি ‘বায়ুসেনা’ বা এয়ারফোর্স হিসেবে চিহ্নিত করেন। অভিষেকের বক্তব্য, ডিজিটাল লড়াই এখন ভোট রাজনীতির অন্যতম প্রধান অস্ত্র, আর এই ক্ষেত্রেই ডিজিটাল যোদ্ধাদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তৃতীয় বাহিনী হিসেবে অভিষেক উল্লেখ করেন সংসদ ও বিধানসভায় থাকা জনপ্রতিনিধিদের। যাঁরা আইনসভায় মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরেন, রাস্তায় মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই চালান, তাঁদের তিনি ‘নৌসেনা’ বা নেভি বলে অভিহিত করেন। নিজেকে এই নৌসেনার অংশ বলেও জানান অভিষেক, কারণ তিনি একজন সাংসদ। একই যুক্তিতে তৃণমূল সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তিনি নৌবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করেন।
অভিষেকের বক্তব্যে স্পষ্ট, ব্যক্তি নয়, সংগঠনই আসল শক্তি। তিন বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই তৃণমূল আগামী নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে চায়। তাঁর আহ্বান, প্রত্যেকে নিজের দায়িত্ব বুঝে মাঠে নামুন, তবেই ভোটযুদ্ধে সাফল্য আসবে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
