নিউজ পোল ব্যুরো: ফের তীব্র বিতর্কে জড়াল এলন মাস্কের সংস্থা এক্স-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক চ্যাটবট গ্রক (Grok AI)। আগেও এই এআই ফিচারকে ঘিরে নারীদের সম্মানহানির অভিযোগ উঠেছিল। এবার সামনে এল আরও ভয়াবহ তথ্য, যা ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অভিযোগ, ফিচারটি বন্ধ করার আগেই গ্রকের সাহায্যে শিশু ও মহিলাদের অন্তত ২৫ লক্ষেরও বেশি অশ্লীল ও খোলামেলা ছবি তৈরি করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: Piercing: শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মঞ্চে নতুন চমক, দাঁতে হিরে বসালেন এই তরুণ সেতারশিল্পী
জানা যাচ্ছে, গ্রকের মাধ্যমে খুব সহজেই কারও মুখ ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে স্বল্পবসনা বা বিকিনি পরা ছবি বানানো যাচ্ছিল। কোনও অনুমতি ছাড়াই একজনের মুখ অন্য একজনের অর্ধনগ্ন শরীরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছিল। শুধু সাধারণ মানুষই নন, স্বয়ং এলন মাস্কের মুখ ব্যবহার করেও এমন ছবি বানানোর নজির সামনে এসেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এই এআই-তৈরি ছবিগুলি পরে সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে বহু মহিলা ও কিশোরী নিজেদের নাম বা মুখ ব্যবহার করা আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকতে দেখেছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ঘৃণাভাষণের বিরুদ্ধে কাজ করা সংস্থা সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেট (CCDH) জানিয়েছে, প্রকাশ্যে আসা প্রায় ৩০ লক্ষ ছবির মধ্যে বিপুল সংখ্যকই অশ্লীল ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ। রিপোর্ট অনুযায়ী, মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যেই অন্তত ২৩ হাজার শিশুর এমন ছবি তৈরি ও ছড়ানো হয়। বাকি লক্ষ লক্ষ ছবিতে ছিলেন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলারা। এই ঘটনায় শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সম্মানহানিই নয়, গুরুতর আইনি ও নৈতিক প্রশ্নও উঠে এসেছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বিনা সম্মতিতে কীভাবে কারও মুখ ব্যবহার করে এমন ছবি তৈরি করা সম্ভব হল? এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার যে কতটা ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে, গ্রক বিতর্ক তা আরও একবার সামনে এনে দিল। ঘটনার জেরে একাধিক দেশের সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা এক্স-এর বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেয়। দ্রুত এই ফিচার বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি ওঠে।
চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত গ্রকের ওই বিতর্কিত ফিচার বন্ধ করতে বাধ্য হয় এক্স। তবে ততক্ষণে ক্ষতি হয়ে গিয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এই ঘটনায় আতঙ্কিত বহু মহিলা ও অভিভাবক। তাঁদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির লাগাম না টানা হলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা আরও বড় বিপদের মুখে পড়তে পারে।
