নিউজ পোল ব্যুরো: পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে থাকা অ্যান্টার্কটিকার ম্যাকমুরডো শুষ্ক উপত্যকায় অবস্থিত একটি বিস্ময়কর প্রাকৃতিক জলপ্রপাত বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। টেলর হিমবাহ থেকে ধীরে ধীরে গড়িয়ে পড়া এই জলপ্রপাত লেক বনি -তে মিশে যায় এবং এর রং বরফের মতো লালচে। এই অদ্ভুত প্রাকৃতিক ঘটনাকে বলা হয় ‘ব্লাড ফলস’। ১৯১১ সালে ভূতাত্ত্বিক থমাস গ্রিফিথ টেলর প্রথম এই জলপ্রপাত আবিষ্কার করেন।
আরও পড়ুন:Awas Yojana funds: অন্য রাজ্যেও নজরদারি, তবুও টাকা পাচ্ছেনা বাংলা! কেন্দ্রকে তোপ রাজ্যের
অত্যন্ত কম তাপমাত্রা, প্রায় -১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেও এই জলপ্রপাত প্রবাহিত হয়, যা বিজ্ঞানীদের অবাক করে দিয়েছে। এই লাল রঙের রহস্য লুকিয়ে আছে প্রায় ৫০ লাখ বছর পুরোনো লোহা সমৃদ্ধ অতিলবণাক্ত জলে । এই জল হিমবাহের প্রায় ৪০০ মিটার নীচে আটকে ছিল। বহু বছর আগে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার ফলে উপত্যকাগুলি প্লাবিত হয় এবং পরে হিমবাহের অগ্রগতিতে এই জলস্তর আটকে পড়ে, যা সূর্যালোক ও অক্সিজেন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হিমবাহের নিচে থাকা পাথর চূর্ণ হয়ে জলে লোহা মিশে যায়। পাশাপাশি এই জলের লবণাক্ততা সমুদ্রের জলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ, ফলে অত্যন্ত ঠান্ডা পরিবেশেও এটি সহজে জমাট বাঁধে না। টেলর হিমবাহের ফাটল দিয়ে যখন এই জল বাইরে বেরিয়ে আসে এবং অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসে, তখন লোহার দ্রুত জারণ হয়ে ফেরিক অক্সাইড তৈরি হয়। এর ফলেই জলপ্রপাতটি মরিচার মতো লাল রঙ ধারণ করে, যা দেখতে রক্তের মতো লাগে। প্রথমদিকে অনেকেই এটিকে লাল শৈবাল ভেবে ভুল করেছিলেন। তবে আধুনিক গবেষণা, বিশেষ করে ২০১৭ সালের অনুসন্ধান , এই জলের রাসায়নিক উৎস নিশ্চিত করেছে। এই অঞ্চলে অক্সিজেনবিহীন অন্ধকার পরিবেশে একটি বিশেষ ধরনের মাইক্রোবায়াল ইকোসিস্টেম রয়েছে, যা মহাকাশ গবেষণায়, বিশেষ করে ইউরোপা মতো বরফে ঢাকা গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা খুঁজতে সাহায্য করছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে এই জলপ্রপাতের প্রবাহও বদলায়। উষ্ণ সময়ে নীচের চাপের কারণে প্রবাহ বাড়ে। অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় এই এলাকায় যেতে হেলিকপ্টারের প্রয়োজন হয় এবং খুব কম পর্যটক এখানে পৌঁছাতে পারেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলন বাড়ছে। ফলে বিজ্ঞানীরা পর্যবেক্ষণ করছেন ভবিষ্যতে এই প্রবাহে পরিবর্তন আসবে কি না। ব্লাড ফলস প্রমাণ করে, পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন পরিবেশেও প্রকৃতির বিস্ময়কর শক্তি ও প্রাণের সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে।
