Abhishek Banerjee: অভিষেকের বিশেষ অনুরোধ! অবশেষে ধরনা তুলে নিলেন মমতা, নবান্নে ফেরার আগে বড় বার্তা

কলকাতা রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: গত শুক্রবার থেকে এসআইআর (SIR) ইস্যুকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। ধর্মতলায় ধরনা মঞ্চে টানা অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। গত কয়েক দিন ধরে তিনি মঞ্চেই অবস্থান করছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন দলের বিধায়ক, সাংসদ, নেতা ও কর্মীরাও। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Abhishek Banerjee) নিয়মিতভাবে ধরনা মঞ্চে এসে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন: Mamata Banerjee : ভোটার তালিকা বিতর্কে অভিনব প্রতিবাদ, মেট্রো চ্যানেলে ক্যানভাসে বার্তা মমতার

সোমবার মুখ্যমন্ত্রীকে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। মঙ্গলবার ফের তিনি ‘দিদি’-কে উদ্দেশ করে বলেন, আন্দোলনের মূল দাবিকে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) গুরুত্ব দিয়েছে, তাই এবার কর্মসূচি শেষ করার কথা ভাবা উচিত। তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, লড়াই এখনও শেষ হয়নি এবং আন্দোলন চলবে। এরপরই তিনি রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বলেন, “দিদি, আজ সুপ্রিম কোর্ট আপনার দাবিকে গুরুত্ব দিয়েছে। এটা আপনার লড়াইয়ের বড় সাফল্য। কিন্তু আপনার শরীরও সুস্থ রাখা দরকার। আপনি মানুষের কাছে পৌঁছবেন, তাদের পাশে থাকবেন সেই জন্যই অনুরোধ করছি, পাঁচ দিন ধরে রাস্তায় বসে আন্দোলন করছেন, আজ এই কর্মসূচি শেষ করার কথা ভাবুন। এখন আমাদের লক্ষ্য ৮০ হাজার বুথে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা।”

তিনি আরও দাবি করেন, বেআইনিভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ নিয়েই সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ মামলা করা হয়েছিল। সেই মামলায় আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে তাঁরা ট্রাইবুনালে আপিল করতে পারবেন। তাঁর কথায়, “যে দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সুপ্রিম কোর্ট সেটাই খুলে দিয়েছে। এটা মানুষের জয়। নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গেলেও যদি কারও সঙ্গে অন্যায় হয়, তাঁরা তৃণমূলের কাছে আসতে পারেন। আমরা বিষয়টিকে বিশেষ মামলা হিসেবে দেখব।”

অভিষেক জানান, সুপ্রিম কোর্ট ২৫ তারিখ পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে। তবে এর আগেই যদি নির্বাচন ঘোষণা করা হয়, তবুও বিষয়টি আদালতের পর্যবেক্ষণের মধ্যেই থাকবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ট্রাইবুনাল গঠনের ব্যবস্থা করবেন। বিচার ব্যবস্থার উপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনের (Election Commission)ভূমিকা নিয়েও সরব হন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, বিজেপিকে সন্তুষ্ট করতে কমিশন আদালতের কাছে ভুল তথ্য পেশ করেছে। তিনি দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্ট কমিশনের আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাঁর কথায়, “বাংলার বিষয়টি বিশেষ মামলা হিসেবে দেখা হবে বলেই আইনজীবীরা জানিয়েছেন। তাই যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরাও ট্রাইবুনালে গিয়ে বিচার চাইতে পারবেন। এমনকি অন্য দলের কর্মীরাও সাহায্য চাইলে আমরা তাঁদের পাশে থাকব।”

এই প্রসঙ্গে বিজেপিকেও তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, “বিজেপির অনেক সাংসদ দামি হোটেলে বসে আছেন, অথচ সাধারণ মানুষের সমস্যার দিকে তাঁদের নজর নেই। গ্যাসের দাম বাড়ছে, মানুষ সমস্যায় পড়ছেন এসব নিয়ে কোনও উদ্বেগ নেই। প্রতিদিন শুধু মিথ্যে কথা বলা হচ্ছে।”

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। অভিষেকের কথায়, “যদি ২৫ দিন আগে গ্যাস না পাওয়া যায়, তাহলে যাঁদের গ্যাস শেষ হয়ে গেছে তাঁরা কী করবেন? দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও খুব উদ্বেগজনক। লক্ষ কোটি টাকার দেনা রয়েছে, ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।”

নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, “যদি সব কিছু স্বচ্ছ থাকত, তাহলে রাজ্যপাল বদলের প্রশ্ন উঠত কেন? সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেও কমিশন তার উত্তর দেয়নি। আসলে বিজেপির পক্ষ থেকে কী বলা হবে, তা ঠিক হয়নি বলেই তারা চুপ থেকেছে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন নিজের অতীত আন্দোলনের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় আমি এখানে টানা ২৬ দিন অনশন করেছিলাম। সেই আন্দোলন থেকেই পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল। ইতিহাস যেন আবারও নিজেকে নতুনভাবে সামনে আনছে। নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুরের লড়াই যেমন এখান থেকেই শুরু হয়েছিল, তেমনই আগামী দিনেও এই আন্দোলন মানুষের অধিকারের লড়াই হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

শেষে তিনি বলেন, মানবিকতা ও মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই থেকেই এই আন্দোলনের জন্ম। সেই কারণেই তিনি মনে করেন, মানুষের সমর্থনই শেষ পর্যন্ত এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole