Egg Price Drop : যুদ্ধের জেরে উপসাগরে বন্ধ রফতানি, দেশে অর্ধেক দামে ডিম! বিপাকে উৎপাদকরা

দেশ ব্যবসা-বাণিজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধের (West Asia War Impact) পরোক্ষ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের বাজারে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়া এবং অটোভাড়ার ঊর্ধ্বগতির মতো নানা ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়েছে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে ডিমের বাজারে দেখা গিয়েছে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। দেশের একাধিক রাজ্যে ডিমের দাম (Egg Price Drop) হঠাৎ করেই অনেকটা কমে গিয়েছে, যা ব্যবসায়ী ও উৎপাদকদের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে (Egg Price Drop)। গত কয়েকদিনে ডিমের দাম প্রায় অর্ধেক নেমে এসেছে বলে জানা গিয়েছে (Egg Price Drop)। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখনও অস্থির, যুদ্ধ কবে শেষ হবে তারও কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। ফলে ডিমের বাজারে অনিশ্চয়তা (Egg Market Uncertainty) আরও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে উৎপাদক ও রফতানিকারকদের মাথায় হাত পড়েছে।

আরও পড়ুন : Mamata Banerjee : রাজনৈতিক কটাক্ষ পেরিয়ে সৌজন্যের ছবি, রাজ্যপাল আর এন রবির শপথে উপস্থিত মমতা

মূল সমস্যা তৈরি হয়েছে রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উপসাগরীয় দেশগুলিতে ভারতের ডিম রফতানি (Egg Export to Gulf Countries) কার্যত থমকে গিয়েছে। ন্যাশনাল এগ কোঅর্ডিনেশন কমিটি বা এনইসিসি (National Egg Coordination Committee) সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্নাটকে গত কয়েক সপ্তাহে ডিমের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে যেখানে একটি ডিমের দাম ছিল প্রায় ৭.০৬ টাকা, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪.৬০ টাকায়। কর্ণাটক রাজ্যে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ ডিম উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে হোসপেট অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ডিম উৎপাদন করে, তার পরেই রয়েছে মহীশূর। সম্প্রতি মহীশূর থেকে নামাক্কলে প্রায় ৪.৭ লক্ষ ডিম নিয়ে যাওয়া একটি রফতানি কন্টেনার মাঝপথেই আটকে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সেই কন্টেনারকে ফিরে আসতে হয়। সাধারণত নামাক্কল অঞ্চল থেকেই প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ডিম উপসাগরীয় দেশগুলিতে পাঠানো হয়। আনুমানিক ৭০ লক্ষ থেকে ১ কোটি ডিম প্রতিদিন রফতানি করা হয়। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে সেই রফতানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole

এর পাশাপাশি রমজান মাস (Ramadan Season Impact) চলার কারণেও ডিমের ব্যবহার কিছুটা কমে গিয়েছে। উৎপাদন বেশি হলেও চাহিদা কমে যাওয়ায় বাজারে ডিমের দাম দ্রুত পড়ে যাচ্ছে। ফলে উৎপাদকরা অতিরিক্ত ডিম হিমঘরে সংরক্ষণ (Egg Cold Storage) করতে বাধ্য হচ্ছেন। সাধারণত এইভাবে ডিম তিন মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব। তেলেঙ্গানাতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে দু’মাস আগে যেখানে একটি ডিমের দাম ছিল প্রায় ৮ টাকা, এখন তা নেমে এসেছে ৩.৫০ থেকে ৩.৮০ টাকার মধ্যে। রাজ্যে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডিম উৎপাদিত হয় এবং বার্ষিক উৎপাদনের বাজারমূল্য প্রায় ১৮,৬০০ কোটি টাকা। ফলে বর্তমান বাজারদরে উৎপাদকদের প্রতি ডিমে প্রায় ১.৫০ টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে (Egg Price Drop)।