নিউজ পোল ব্যুরো: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দুধ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সের মানুষের জন্যই দুধ প্রয়োজনীয় পুষ্টির উৎস। কিন্তু বাজার থেকে কেনা দুধ আদৌ খাঁটি কি না, তা নিয়ে অনেকেরই মনে প্রশ্ন থাকে। নানা সময়ে খবর আসে, দুধে স্টার্চ, ডিটারজেন্ট বা ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে। এই ধরনের ভেজাল (Milk Adulteration) দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
আরও পড়ুন:Healthy Diet: পার্টি, পিকনিক, পায়েস—সব চলবে! শুধু মেনে চলুন শীতের এই সঠিক ডায়েট রুটিন
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধে ইউরিয়া, কস্টিক সোডা বা ফর্মালিনের মতো পদার্থ মেশানো হলে তা কিডনি, লিভার, এমনকি হৃদ্যন্ত্রের উপরেও খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই দুধ খাঁটি কি না, তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। তবে সব সময় পরীক্ষাগারে গিয়ে পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। ঘরেই কিছু সহজ পদ্ধতি মেনে চললে দুধের গুণমান (Milk Adulteration) সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
প্রথমেই একটি সহজ পরীক্ষা করা যেতে পারে মাটিতে দুধ ফেলে। যদি দুধ গড়িয়ে গিয়ে সাদা দাগ রেখে যায়, তা হলে সেটি তুলনামূলকভাবে খাঁটি বলে ধরে নেওয়া যায়। কিন্তু দাগ না পড়লে বুঝতে হবে, এতে জল বা অন্য কিছু মেশানো থাকতে পারে।
আর একটি উপায় হল দুধ গরম করা। যদি দুধ গরম করার সময় তা অস্বাভাবিক ভাবে হলদেটে হয়ে যায়, তা হলে তাতে স্টার্চ মেশানো থাকতে পারে। আরও নিশ্চিত হতে চাইলে অল্প দুধে সামান্য নুন মিশিয়ে দেখা যেতে পারে। যদি রং নীলচে হয়ে যায়, তা হলে বুঝতে হবে স্টার্চ রয়েছে।
দুধে ফর্মালিন আছে কি না তা যাচাই করতে একটি বিশেষ রাসায়নিক পরীক্ষার কথা বলা হয়। যদিও ঘরে এই পরীক্ষা করা ঝুঁকিপূর্ণ, তবু জানা দরকার—সালফিউরিক অ্যাসিড মেশালে নীল রং দেখা গেলে ফর্মালিনের উপস্থিতি বোঝা যায়।
এ ছাড়া ডিটারজেন্ট মেশানো আছে কি না, তা বুঝতে একটি বোতলে দুধ ও জল সমপরিমাণে নিয়ে ভালো করে ঝাঁকাতে হবে। যদি অতিরিক্ত ফেনা তৈরি হয়, তা হলে ধরে নিতে হবে দুধে ডিটারজেন্ট মেশানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, দুধের ভেজাল সম্পূর্ণ রোধ করা না গেলেও সচেতন থাকলে অনেকটাই নিরাপদ থাকা সম্ভব। নিয়মিত এই সহজ পরীক্ষাগুলি করলে অন্তত দুধের গুণমান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। পরিবারের সুরক্ষার জন্য এই ধরনের সতর্কতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole
