নিউজ পোল ব্যুরো: মঙ্গলবার অর্থাৎ আজ থেকেই রাজ্যে শুরু হচ্ছে SIR (Special Investigation & Revision) প্রক্রিয়া। আর এই সময়েই ফের বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারির জল্পনা উস্কে দিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারে এক রাজনৈতিক সভা থেকে শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট বার্তা, “৫ মের মধ্যে যদি নতুন সরকার গঠিত না হয়, তবে বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে।”
নির্বাচন কমিশন (Election Commission) ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ভোট সম্ভব নয়। সোমবারই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সাংবাদিক বৈঠকে সেই অবস্থান স্পষ্ট করেন। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) এই মন্তব্যে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা ছড়িয়েছে রাজ্যে।
বিরোধী দলনেতার দাবি, কমিশনের উপর সম্পূর্ণ দায় বর্তায় সঠিক সময়ে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করার। যদি কোনও প্রশাসনিক বাধা বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ঘটে, তাহলে কমিশনের হাতে যথেষ্ট সাংবিধানিক ক্ষমতা আছে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার। শুভেন্দুর কথায়, “বিএলও ও বিএলও–২–দের নিরাপত্তা দেওয়া নির্বাচন কমিশনের কর্তব্য। রাজ্য যদি তার দায়িত্বে ব্যর্থ হয়, তাহলে কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করবেই।”
তার আরও অভিযোগ, তৃণমূল সরকার প্রশাসনিক কাজের আড়ালে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে। “৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যদি সূচি তৈরি না হয়, তবে কমিশন ব্যবস্থা নেবে আর সেই ব্যবস্থাই হবে রাষ্ট্রপতি শাসন,”* হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর। উল্লেখ্য, এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার শুভেন্দু দাবি করেছেন, রাজ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তাই প্রয়োজন কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ। তার যুক্তি, “যখন নির্বাচন কমিশনের কাজ ব্যাহত হয়, তখন সংবিধান অনুযায়ী প্রশাসনের দায়ভার রাজ্যপালের হাতে ন্যস্ত করা যায়।”
অন্যদিকে, শুভেন্দুর এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষের কটাক্ষ, “যিনি রাজ্যে রাজনীতি করে হেরে গেছেন, তিনি এখন সংবিধানের আড়ালে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করছেন। ক্ষমতা দখল করতে না পেরে কেন্দ্রীয় হাতিয়ার ব্যবহার করতে চাইছেন।” ফলে, SIR-এর সূচনালগ্নেই বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের তাপমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী— সামনে কী অপেক্ষা করছে, এখন তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
