TMC: অভিষেকের নির্দেশ আসতেই ‘সারেন্ডার’! অনেক টালবাহানার পর অবশেষে পদত্যাগ করলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করলেন কোচবিহার পুরসভার তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। শনিবার সকালে তিনি কোচবিহারের (Coochbehar) সদর মহকুমা শাসকের দপ্তরে গিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি নিজেই জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নির্দেশেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আরও পড়ুন: TMC: ‘দিদি ক্ষমা করবেন, বিজেপি নেতারা এলে পালটা মার হবে’, ভিনরাজ্যের নেতাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বিতর্কে তৃণমূল বিধায়ক

রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বিরুদ্ধে স্টল বিলি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল বলে দলীয় সূত্রে খবর। যদিও এই অভিযোগ তিনি বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন। অতীতেও একাধিকবার তাঁকে পদত্যাগ করার জন্য বলা হয়েছিল, কিন্তু সেই সময় তিনি নির্দেশ মানেননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) অথবা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি নির্দেশ না দিলে তিনি পদ ছাড়বেন না। সেই অবস্থান তিনি সংবাদমাধ্যমেও স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন।

তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলায়। সম্প্রতি কোচবিহার জেলা তৃণমূল (TMC) সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক তাঁকে বার্তা পাঠিয়ে পদত্যাগের অনুরোধ করেন। সেই বার্তা মানতে রাজি না হলেও, শুক্রবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথা হয় রবীন্দ্রনাথ ঘোষের। এরপরই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, আগামী ১৩ জানুয়ারি কোচবিহারে সভা করার কথা রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার ঠিক আগেই এই পদত্যাগ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই।

পদত্যাগ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “আমি দলের একজন অনুগত কর্মী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, তাই পদত্যাগ করেছি। কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তা আমি জানি না। অনেকদিন ধরেই আমাকে এই কথা বলা হচ্ছিল।” তৃণমূল (TMC) নেতা পার্থ প্রতীম রায়ও জানান, দলের শৃঙ্খলা মেনে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, কোচবিহার জেলায় উদয়ন গুহ ও অভিজিৎ দে ভৌমিক গোষ্ঠীর বিরোধী বলেই পরিচিত ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে বলেন, তৃণমূলের অন্দরেই রাজনীতি এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে, আর পুরনো দিনের কর্মীরা সেই বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন। সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে এই পদত্যাগ কোচবিহারের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-  https://youtube.com/@thenewspole