নিউজ পোল ব্যুরো: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন ঘটে— শুধু মহিলাদের ক্ষেত্রেই নয়, পুরুষদের শরীরেও ৪০ পেরোনোর পর উল্লেখযোগ্য জৈবিক বদল দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময় থেকেই প্রোটিনের (Protein) প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই বেড়ে যায়। কারণ, শরীরের শক্তি ধরে রাখা, পেশি রক্ষা করা এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
আরও পড়ুন:Migraine: মাইগ্রেনের যন্ত্রণায় কাবু? বাড়িতে বানানো এই তেলেই মিলবে ম্যাজিকের মতো মুক্তি
প্রথমত, ৪০-এর পর থেকে শরীরে পেশি ক্ষয় হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই অবস্থাকে সারকোপেনিয়া বলা হয়। পর্যাপ্ত প্রোটিন (Protein) না পেলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম করতেও সমস্যা হতে পারে। তাই নিয়মিত প্রোটিন গ্রহণ করলে পেশির শক্তি বজায় রাখা সম্ভব।
দ্বিতীয়ত, বয়স বাড়লে শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। এর ফলে শরীরে চর্বি জমতে শুরু করে। প্রোটিন হজম করতে শরীরের বেশি শক্তি লাগে, তাই এটি মেটাবলিজম সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।
এছাড়া, পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা বয়সের সঙ্গে কমতে থাকে। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার এবং নিয়মিত শরীরচর্চা এই হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি, হাড়ের শক্তি ধরে রাখতেও প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, কারণ হাড়ের গঠনের বড় একটি অংশই প্রোটিন দিয়ে তৈরি।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা সাধারণত শরীরের ওজন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রায় ০.৮ থেকে ১.২ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন হতে পারে। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ আরও কিছুটা বেশি হতে পারে।
প্রোটিনের জন্য বাজারের সাপ্লিমেন্টের উপর নির্ভর না করে প্রাকৃতিক খাবার বেছে নেওয়াই ভালো। ডিম, মুরগির মাংস, মাছ, ডাল, বাদাম, দুধ, টক দই, পনির, টোফু ও সয়াবিনের মতো খাবার প্রতিদিনের ডায়েটে রাখা যেতে পারে।
তবে একবারে বেশি প্রোটিন না খেয়ে সারাদিনের বিভিন্ন সময়ে ভাগ করে খাওয়া উচিত। এতে শরীর সহজে প্রোটিন শোষণ করতে পারে এবং উপকারও বেশি পাওয়া যায়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole
