নিউজ পোল ব্যুরো: দিনের শুরুটা কেমন হবে, তার উপর অনেকটাই নির্ভর করে শরীরের সারাদিনের ছন্দ। বিশেষ করে সকালে খালি পেটে কী খাচ্ছেন বা কী করছেন, তা রক্তে শর্করার মাত্রা (Blood Sugar Control) এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। চিকিৎসকদের মতে, অনেক সময় আমরা যে অভ্যাসগুলোকে স্বাস্থ্যকর মনে করি, সেগুলিই উল্টে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে ধীরে ধীরে ডায়াবিটিসের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন:Malda Incident: কালিয়াচক কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ, ভোটের মুখে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত আদালতের
ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে স্বাভাবিক ভাবেই কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কিছুটা বেশি থাকে এবং রক্তে শর্করা তুলনামূলক কম থাকে। এই সময় ভুল খাবার বা অভ্যাস শরীরের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই খালি পেটে কিছু সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি।
প্রথমত, অনেকেই দিন শুরু করেন ফলের রস বা স্মুদি দিয়ে। যদিও এটি স্বাস্থ্যকর বলে মনে হয়, কিন্তু খালি পেটে এই ধরনের পানীয় দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কারণ এতে ফাইবার কম থাকে এবং চিনি দ্রুত শোষিত হয়। ফলে শর্করার হঠাৎ ওঠানামা ইনসুলিনের উপর চাপ সৃষ্টি করে।
দ্বিতীয়ত, ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে কফি খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু এতে কর্টিসল হরমোন আরও বেড়ে যেতে পারে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় এবং শরীরের স্বাভাবিক ইনসুলিন প্রতিক্রিয়াকে ব্যাহত করে।
তৃতীয়ত, না খেয়ে ভারী বা তীব্র ব্যায়াম করাও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, ফলে শরীর গ্লুকোজ় নিয়ন্ত্রণে সমস্যায় পড়ে। দীর্ঘদিন এভাবে চললে ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ে।
চতুর্থত, খালি পেটে বিস্কুট, সাদা পাউরুটি বা প্যাকেটজাত খাবারের মতো পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট খাওয়া ঠিক নয়। এই খাবারগুলো দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়ায় এবং পরে তা হঠাৎ কমে যায়, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
পঞ্চমত, অনেকেই ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের নামে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকেন। কিন্তু এটি সবার জন্য উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে যারা মানসিক চাপ বা ঘুমের সমস্যায় ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে এই অভ্যাস রক্তে শর্করার ভারসাম্য আরও বিঘ্নিত করতে পারে।
তাহলে কী করবেন? সকালে খালি পেটে প্রোটিন, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত সুষম খাবার দিয়ে দিন শুরু করা উচিত। যেমন ডিম, বাদাম, ওটস বা ফলের সঙ্গে দই— এই ধরনের খাবার শরীরকে ধীরে ধীরে শক্তি জোগায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখে।
সঠিক সময়ে খাওয়ার অভ্যাস এবং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী জীবনযাপন করলে সহজেই রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ (Blood Sugar Control) রাখা সম্ভব। ছোট ছোট এই পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার এনে দিতে পারে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole
