নিউজপোল ব্যুরো: মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে ডানকুনিতে বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ। রাজ্যে শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এক বিরাট পদক্ষেপের সাক্ষী থাকল ডানকুনি। সিঙ্গুর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরত্বে প্রায় ২০ লক্ষ বর্গফুট বিশাল এলাকা জুড়ে গড়ে উঠল হোসিয়ারি ব্র্যান্ড ‘লাক্স কোজি’-র দ্বিতীয় তথা সর্বাধুনিক উৎপাদন ইউনিট। শনিবার বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই মেগা প্ল্যান্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বিশেষ মুহূর্তে মঞ্চে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
এই উদ্বোধনী মঞ্চকে ব্যবহার করেই রাজ্যে দ্রুত শিল্পায়নের চাকা ঘোরাতে এক বড়সড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জমি সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের একটি নতুন ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নীতির কথা জানান। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর সরকার এবার থেকে ২০১৩ সালের কেন্দ্রীয় জমি ক্রয় নীতি অনুসরণ করে কাজ করবে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যে কোনও বড় বিনিয়োগ বা শিল্প প্রজেক্ট এলে সরকার নিজেই সরাসরি জমি কিনবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী সেই জমি সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা বিনিয়োগকারীর হাতে তুলে দেওয়া হবে, যাতে জমি জট কেটে কাজ দ্রুত শুরু হতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, এই পদ্ধতিতে ইতিপূর্বেই জমি কিনে সীমান্ত রক্ষাবাহিনী বা বিএসএফ-এর (BSF) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে রাজ্যে রেলের সম্প্রসারণ, জাতীয় সড়কের উন্নয়ন এবং বিমানবন্দর তৈরির মতো বড় মাপের পরিকাঠামোমূলক প্রজেক্টের জন্যও ঠিক একই মডেলে জমি কেনা হবে। ডানকুনিতে লাক্স কোজির এই নতুন কারখানার ফলে এলাকায় যেমন বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হবে, তেমনই সরকারের এই নতুন জমি নীতি বাংলায় নতুন বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি আকৃষ্ট করবে বলে মনে করছে সবাই। ডানকুনিতে এই মেগা প্রজেক্টের হাত ধরে বাংলায় কর্মসংস্থানের এক নতুন দিশা তৈরি হলো। সিঙ্গুরের মতো ঐতিহাসিক জায়গার কাছে এত বড় একটি কারখানার উদ্বোধন হওয়া নিঃসন্দেহে রাজ্যের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এক বার্তা। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় জমি নীতি কার্যকর করার কথা ঘোষণা করলেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
