নিউজ পোল ব্যুরো: প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম (PMS) নিয়ে সমাজে এখনও নানা ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। অনেক সময় একে শুধু মুডি হয়ে ওঠা বলে এড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে এই শারীরিক-মানসিক পরিবর্তন বহু মহিলার জীবনকে প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিক রাখতে দেয় না। সমীক্ষা বলছে, প্রজননক্ষম বয়সের প্রায় ৭৫ শতাংশ মহিলা পিএমএসের(PMS Womens Health) অভিজ্ঞতা পান, আর পাঁচজনের মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে উপসর্গ এতটাই তীব্র হয় যে তা সরাসরি কাজ ও সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে।
আরও পড়ুন:BCCI president election: বিসিসিআই-এর বার্ষিক সাধারণ সভা ২৮ সেপ্টেম্বর, সভাপতি সহ সকল পদের নির্বাচন
আজকের ‘হস্টেল কালচার’(Hostel Culture )-নির্ভর জীবনযাপন এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। রাত জাগা, অতিরিক্ত কফি বা চা, দীর্ঘক্ষণ ল্যাপটপ(Laptop) বা মোবাইলের(Mobile) সামনে বসে থাকা এবং ডেডলাইনের চাপ এসবের ফলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, কর্টিসল বাড়লে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের ওঠা-নামা আরও তীব্র হয়, যা মুড সুইং, ক্লান্তি ও খিটখিটে ভাব বাড়ায়। এর সঙ্গে যোগ হয় অনিয়মিত খাবার ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, ফলে পিএমএস আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

কর্মক্ষেত্রেও এই বিষয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। অনেক চাকরিরত মহিলা পিএমএসকে গুরুত্ব দিয়ে ছুটি নিতে দ্বিধাবোধ করেন, কারণ সমাজে এখনও একে দুর্বলতা বলে মনে করা হয়। অথচ উপসর্গ উপেক্ষা করলে তা দীর্ঘমেয়াদে প্রিমেনস্ট্রুয়াল ডিসফোরিক ডিসঅর্ডার (PMDD)-এর মতো জটিল রূপ নিতে পারে। এছাড়া মানসিক চাপ ও অনিয়মিত রুটিনের কারণে ডিম্বস্ফোটনে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা প্রজনন ক্ষমতাতেও প্রভাব ফেলে।
সঠিক নিয়ম মানার মধ্যেই লুকিয়ে। ভারসাম্যপূর্ণ খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট—এসবই পিএমএস নিয়ন্ত্রণে রাখার কার্যকর উপায়। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে ফ্লেক্সিবল সময়, সচেতনতা সেশন ও রিমোট ওয়ার্কের মতো উদ্যোগ মহিলাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার পক্ষে সহায়ক হতে পারে। পিএমএস (PMS)কোনও দুর্বলতা নয়, এটি বাস্তব ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত স্বাস্থ্য সমস্যা। তাই এর মোকাবিলায় ব্যক্তিগত অভ্যাস পরিবর্তনের পাশাপাশি সমাজেরও মানসিকতা বদলানো জরুরি।
