সঙ্গীতা ঘোড়ুই : বাংলার প্রতিটি উৎসবেই মিষ্টির (traditional sweets) গুরুত্ব অপরিসীম। দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো বা ভাইফোঁটা সব আনন্দেরই সঙ্গী একবাটি মিষ্টি। আর সেই মিষ্টির রাজ্যে এক বিশেষ নাম হলো চন্দ্রপুলি (Chandrapuli Sweet)। নামের মতোই এই মিষ্টির আকার অর্ধচন্দ্রাকৃতি (crescent shape), যা দেখতে যেমন সুন্দর, খেতে তেমনি অপূর্ব। বাইরে নরম খোলস আর ভেতরে মিষ্টি নারকেল-খোয়ার পুর (stuffing with coconut & khoya) এই মিশেলেই তৈরি হয় বাংলার ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রপুলি। লক্ষ্মীপুজোর (Lokkhi Puja 2025) আগে বাড়িতেই যদি বানিয়ে ফেলেন এই মিষ্টি, তবে উৎসবের আমেজ আরও বেড়ে যাবে। দোকানের মিষ্টির তুলনায় ঘরোয়া চন্দ্রপুলির স্বাদ কিন্তু অনেক গুণে অনন্য।

কীভাবে বানাবেন? রইল রেসিপি-
প্রথমে পুর (filling) তৈরি করতে হবে। কড়াইতে কোরানো নারকেল (grated coconut), চিনি ও খোয়া একসঙ্গে দিন। মাঝারি আঁচে নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না মিশ্রণ ঘন হয়ে আসে। শেষে এলাচ গুঁড়ো (cardamom powder), কিশমিশ (raisins) ও বাদাম কুচি (cashew pieces) মিশিয়ে নামিয়ে রাখুন ঠান্ডা হতে। এরপর তৈরি হবে খোলস বা ইস্ট (dough)। ময়দায় (flour) ঘি ও এক চিমটি লবণ মিশিয়ে অল্প অল্প করে জল দিন। মসৃণ খামির তৈরি হলে ঢেকে রাখুন অন্তত ২০ মিনিট। তারপর ছোট ছোট লেচি কেটে বেলে নিন। প্রতিটির মাঝখানে পুর দিয়ে অর্ধচন্দ্রাকারে ভাঁজ করুন। কিনারা চেপে দিন কাঁটাচামচ (fork) দিয়ে, যাতে পুর বের না হয়।
আরও পড়ুন:North Bengal Flood : উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ পরিস্থিতি, লাগাতার বৃষ্টিতে ভাঙল দুধিয়া ও বিজনবাড়ি সেতু!
এখন কড়াইতে তেল (refined oil) গরম করে মাঝারি আঁচে একে একে চন্দ্রপুলি ভেজে নিন সোনালি বাদামি (golden brown) রং হওয়া পর্যন্ত। অন্যদিকে, চিনি ও জল ফোটিয়ে তৈরি করুন চিনির সিরা (sugar syrup)। হালকা ঘন হলে সামান্য এলাচ গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। গরম গরম ভাজা চন্দ্রপুলি সিরায় ডুবিয়ে কয়েক মিনিট রেখে দিন, তারপর পরিবেশন করুন।

বিশেষ টিপস (tips):
চাইলে পুরে নারকেলের সঙ্গে গুঁড়ো দুধ (milk powder) মেশাতে পারেন—স্বাদ আরও বাড়বে। সিরা যেন অতিরিক্ত ঘন না হয়, না হলে মিষ্টি ভালভাবে সিরা টানবে না। আর সবচেয়ে ভালো লাগে গরম গরম চন্দ্রপুলি (hot sweet Chandrapuli) খেতে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
চন্দ্রপুলি শুধু একটি মিষ্টি নয়, এটি বাংলার আবেগ (Bengali tradition) ও ঐতিহ্যের (heritage dessert) প্রতীক। হাতে বানানো এই মিষ্টি ঘরকে যেমন ভরিয়ে তোলে মিষ্টি গন্ধে, তেমনি মনে করিয়ে দেয়— উৎসবের আসল আনন্দ লুকিয়ে থাকে নিজের হাতে বানানো এক টুকরো মিষ্টির মধ্যেই।
