Healthy Sleep: ভালো ঘুম মানেই সুস্থ হৃদ্‌পিণ্ড, নিয়মিত ঘুম রাখবে হার্টকে ফিট ও স্বাস্থ্যবান

Life style

মানুষের শরীরে ঘুম (sleep) শুধুমাত্র বিশ্রামের (rest) সময় নয়, এটি শরীরের পুনর্গঠনের (recovery) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিয়মিত এবং পর্যাপ্ত ঘুম মনকে সতেজ রাখার পাশাপাশি হৃদ্‌পিণ্ডের (heart) স্বাস্থ্যের জন্যও অপরিহার্য। গবেষণায় (research) দেখা গিয়েছে, যারা দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম পান না, তাঁদের মধ্যে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি (risk of heart disease) তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। যখন আমরা গভীর ঘুমে থাকি, তখন হৃদ্‌স্পন্দন (heartbeat) ও রক্তচাপ (blood pressure) ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এর ফলে হৃদ্‌যন্ত্র কিছুটা বিশ্রাম পায় এবং রক্তনালীগুলিতে চাপও কমে আসে। কিন্তু ঠিক মতো ঘুম না হলে, অর্থাৎ রাত জেগে থাকলে, হৃদ্‌পিণ্ডকে (heart) বেশি সময় কাজ করতে হয়। সেই অতিরিক্ত কাজের চাপ দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। তাই নিয়মিত ভালো ঘুম শুধুমাত্র মানসিক শান্তির জন্য নয়, বরং এটি এক ধরনের হৃদ্‌সুরক্ষা (heart protection) ।

How Your Sleep Affects Your Heart?

দীর্ঘদিন অনিদ্রা (insomnia) চলতে থাকলে শরীরে কর্টিসল (cortisol) নামের স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এর ফলে শরীরে অস্বাভাবিক প্রদাহ (inflammation) তৈরি হয়, যা হৃদ্‌যন্ত্রের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। যাঁদের অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া (obstructive sleep apnea) রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঘুমের সময় শ্বাসপ্রশ্বাস (breathing) ব্যাহত হয় এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা (oxygen level) কমে যায়। এর সঙ্গে রক্তচাপ বেড়ে গেলে হার্টকে আরও বেশি কাজ করতে হয়, যা ক্রমে ক্ষতির দিকে নিয়ে যায়। ঘুমের অভাবের কারণে হৃদ্‌রোগ (cardiac problems), পালমোনারি হাইপারটেনশন (pulmonary hypertension), এমনকি হার্ট অ্যাটাকের (heart attack) আশঙ্কাও বেড়ে যেতে পারে। শুধু তাই নয়, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (immune system) কমিয়ে দেয়, মানসিক স্থিরতা নষ্ট করে এবং মনোযোগ ক্ষমতাও দুর্বল করে তোলে। অর্থাৎ, ঘুমের অভাব পুরো শরীরকেই প্রভাবিত করে দেয় ভিতর থেকে।

Sleep Deprivation: Symptoms, Causes, Effects, and Treatment

আরও পড়ুন- Calcutta University: উপাচার্যের কুর্সিতে পালাবদল, শান্তার পর আশুতোষের যাত্রা শুরু

তাই হার্টের (heart’s) স্বাস্থ্য রক্ষায় ঘুমকে (sleep) অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা শরীরের জৈব ঘড়িকে (biological clock) স্থির রাখে। ঘুমের জন্য ঘরের পরিবেশ (sleep environment)ও খুব গুরুত্বপূর্ণ—শান্ত, অন্ধকার এবং আরামদায়ক ঘর ঘুমের মান (quality of sleep) উন্নত করে। ঘুমোতে যাওয়ার আগে ক্যাফিন (caffeine), চা, কফি বা নিকোটিন (nicotine) জাতীয় কোনো উত্তেজক পদার্থ এড়িয়ে চলা প্রয়োজন, কারণ এগুলি ঘুম আসতে বাধা দেয়। এছাড়া ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের (screen time) মতো যন্ত্র থেকে দূরে থাকা উচিত। স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো (blue light) মেলাটোনিন (melatonin) নামের ঘুমের হরমোনের ক্ষরণে বাধা দেয়, ফলে ঘুমের সময় দেরি হয়। সব মিলিয়ে বলা যায়, পর্যাপ্ত এবং শান্ত ঘুম (sound sleep) কেবল শরীরের শক্তি ফিরিয়ে আনে না, এটি এক সুস্থ হৃদ্‌পিণ্ড (healthy heart) এবং দীর্ঘ জীবনের (long life) চাবিকাঠিও বটে।