নিউজ পোল ব্যুরো: ওজন কমানো থেকে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ— স্বাস্থ্য সচেতনদের মধ্যে অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার (Apple Cider Vinegar) এখন বেশ জনপ্রিয়। অনেকেই মনে করেন, নিয়মিত এই ভিনিগার খেলে ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এর পিছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণও। অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারে থাকা অ্যাসিটিক অ্যাসিড কার্বোহাইড্রেট হজমের প্রক্রিয়াকে কিছুটা ধীর করে দেয়। ফলে খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে। প্রি-ডায়াবিটিস বা টাইপ ২ ডায়াবিটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হতে পারে।
আরও পড়ুন: Weather Update: ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে কেমন থাকবে আবহাওয়া? জেনে নিন আপডেট
শুধু রক্তে শর্করা নয়, হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও এই ভিনিগার উপকারী বলে মনে করা হয়। খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে এটি। পাশাপাশি অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল গুণের কারণে প্রদাহ কমানো এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখে। প্রিবায়োটিক উপাদান থাকায় অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও সহায়ক।
তবে উপকার পেতে হলে নিয়ম মেনে খাওয়া জরুরি। ভিনিগার অত্যন্ত অম্লধর্মী, তাই কখনওই সরাসরি পান করা উচিত নয়। সাধারণত ১ গ্লাস জলে ১ টেবিলচামচ (প্রায় ১৫ মিলিলিটার) অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। দিনে ১৫ মিলিলিটারের বেশি না খাওয়াই ভালো। খাবারের প্রায় ২০–৩০ মিনিট আগে খেলে হজমে সহায়তা করে।
দাঁতের এনামেল রক্ষার জন্য স্ট্র ব্যবহার করে পান করাই শ্রেয়। কারণ ভিনিগারের অম্ল দাঁতের ক্ষয় ডেকে আনতে পারে। অনেকেই সকালে খালি পেটে এটি খান, তবে যাঁদের অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এতে অস্বস্তি বাড়তে পারে।
বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন যাঁদের কিডনির সমস্যা রয়েছে বা ডায়াবিটিসের ওষুধ চলছে। কারণ রক্তে শর্করা হঠাৎ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই নিয়মিত ভিনিগার খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল— অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার (Apple Cider Vinegar) কোনও জাদু ওষুধ নয়। এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প হতে পারে না। সুষম ডায়েট, পর্যাপ্ত ঘুম এবং শারীরিক কসরতের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করলেই এর উপকার মিলতে পারে।
সচেতনভাবে ও পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করলে অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণ এবং হজমশক্তি উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে। তবে অতিরিক্ত বা ভুল পদ্ধতিতে গ্রহণ করলে উপকারের বদলে ক্ষতিই হতে পারে সে কথাও মনে রাখা জরুরি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole
